পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হলো।

বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari শুক্রবার (৮ মে, ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে তিনি রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। শনিবার (৯ মে, ২০২৬) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্য মন্ত্রী Suvendu Adhikari।
কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। তিনি জানান, বিধায়ক দলের সমস্ত প্রস্তাবই শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষেই এসেছে এবং সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
৫৭ বছর বয়সী শুভেন্দু অধিকারী এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় লাভ করেছেন। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে ১৫,১১৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়ে আলোচনায় আসেন।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ এবং বহুমুখী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি তিনি একাধিকবার লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেন। বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করতে এবং রাজ্যে দলকে ক্ষমতায় আনতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক দলের বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “প্রথমে কমিউনিস্টরা এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, যেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক দুঃস্বপ্নের মধ্যে ছিল। বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন, আর সেই পরিবর্তনের ফল আজকের এই বিজয়।”
অমিত শাহ এই জয়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আদর্শগত ধারাবাহিকতার ১০০ বছর পরে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। যেখানে Syama Prasad Mookerjee আছেন, সেখান থেকে তিনি নিশ্চয়ই নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য আশীর্বাদ করছেন।”
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হতে চলেছে, এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। এখন সকলের নজর শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এবং নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপের দিকে।

নতুন সরকার গঠনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। কলকাতা থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা—বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ, আবির খেলা এবং বিজয় মিছিলের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই জয় শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলার মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষকদের স্বার্থরক্ষা এবং যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুধু বিজেপির জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্যও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী শাসনের পর এবার বিজেপির হাতে প্রশাসনিক দায়িত্ব যাওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার মানুষের প্রত্যাশা কত দ্রুত পূরণ করতে পারে এবং বাংলার উন্নয়নের নতুন দিশা কতটা সফলভাবে দেখাতে পারে।
R.G. Kar বিক্ষোভে হাজারো কণ্ঠে শক্তির বার্তা, 2025 ন্যায়ের জয়ধ্বনি
kolkata metro 2025: গ্রিন ও পার্পল লাইনে পরিষেবা ও সময় বাড়ছে, কিন্তু রবিবার গ্রিন লাইন-১ বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
