ASIA CUP 2025: সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতের আত্মবিশ্বাসী সূচনা

এশিয়া কাপ ২০২৫ শুরুর আগে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব যেন পুরো অনুষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র। মাঠের ভেতরে যেমন তিনি ৩৬০ ডিগ্রির ব্যাটিং শৈলীতে দর্শক মাতান, তেমনই প্রেস কনফারেন্সেও তিনি তার হাস্যরস, বুদ্ধিমত্তা এবং স্বস্তিদায়ক নেতৃত্বগুণ দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করলেন।
‘ফেভারিট’ ট্যাগ নিয়ে সূর্যকুমারের জবাব
প্রেস কনফারেন্সে যখন তাকে প্রশ্ন করা হলো, ভারত কি টুর্নামেন্ট জেতার ফেভারিট? তিনি এক চিলতে হাসি দিয়ে উত্তর দিলেন—
“টি-টোয়েন্টি একটি দ্রুত খেলা, এখানে কেউই ফেভারিট নয়। তবে আমাদের প্রস্তুতি দুর্দান্ত হয়েছে, এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
এভাবেই সহজ ভাষায় তিনি দলের মানসিকতা প্রকাশ করলেন। বড় বড় দাবি না করে বরং মাঠের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের একাগ্রতার উপর ভরসা রাখলেন।
দলের শক্তি ও প্রস্তুতি
ভারতীয় দল গত দুই বছরে ২২ ম্যাচে মাত্র চারবার হেরেছে। এই রেকর্ডই বোঝায় দলের ধারাবাহিকতা। আইপিএলের ব্যস্ত মৌসুমের পর প্রায় সব খেলোয়াড়ই সতেজ হয়ে ফিরেছেন। জসপ্রিত বুমরাহ, শুভমান গিলের মতো টেস্ট তারকারা যেমন রেস্ট পেয়েছেন, তেমনই সঞ্জু স্যামসনের মতো ক্রিকেটাররাও নতুন উদ্যমে প্রস্তুত।
কোনও ফিটনেস সমস্যা নেই, দলে ইনজুরি চিন্তাও নেই। একাদশ সাজাতে গেলে কোচ-অধিনায়কের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। বলা চলে, ভারত প্রায় পূর্ণ শক্তিতেই এশিয়া কাপে নামছে। ff
প্রেস কনফারেন্সে সূর্যকুমারের হাস্যরস
দুবাইয়ের গরম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সূর্যকুমার হেসে বললেন—
“আমি গরম একদমই টের পাচ্ছি না। বরং ভালোই লাগছে।”
তার এই উত্তর শুনে হাসির রোল পড়ে যায় সভাকক্ষে।
চুল কাটার প্রশংসা বা দলে পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও তিনি হালকা মেজাজে প্রতিটি উত্তর দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, যখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে তখন অযথা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
ASIA CUP 2025 প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মজার খুনসুটি
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কার দিকে ইঙ্গিত করে সূর্যকুমার বলেন—
“আমি বল করতে নামলে চারিথ খুশি হন না, কারণ তখনই ভারত ম্যাচে ফিরে আসে।”
এতে পুরো কনফারেন্স হাসিতে ভরে যায়।
আসালঙ্কা মজা করে তার সঙ্গে হেসে কথা বলেন। পাশে বসা আফগান তারকা রশিদ খানও হেসে কথোপকথনে যোগ দেন। স্পষ্ট ছিল, সূর্যকুমারের প্রাণবন্ত উপস্থিতি সবাইকে স্বাচ্ছন্দ্যে রেখেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিন্ন মেজাজ
রশিদ খান কিন্তু সূর্যকুমারের উল্টো। তিনি যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার পর্ব শেষ করতে চাইছিলেন, কারণ তার দলের ম্যাচ একেবারেই ঘাড়ে এসে পড়েছে। রশিদের ভাষায়—
“পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ব্যস্ত সূচি মানিয়ে নিতেই হয়। অভিযোগ করার জায়গা নেই।”
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার আসালঙ্কা বললেন—
“টানা ম্যাচ খেলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আশা করি কোচ কয়েকদিন বিশ্রাম দেবেন।”
কিন্তু ভারতীয় অধিনায়কের চোখেমুখে ছিল শুধুই সতেজতা। দীর্ঘ সময় ধরে না খেললেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। মনে করিয়ে দিলেন, অধিকাংশ ভারতীয় খেলোয়াড়ই আইপিএলে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন।
NEPAL দুর্নীতি ও সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নেপালে ব্যাপক বিক্ষোভ, ১৯ জনের মৃত্যু
GPT-5 এসে গেছে: বদলে দেবে প্রযুক্তি, যোগাযোগ আর সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মেজাজ
সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগ্রাসন নিয়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সূর্যকুমার মজা করে বললেন—
“মাঠে নামার সময় আগ্রাসন সবসময় থাকে, সেটা ছাড়া খেলা সম্ভব নয়। তবে এটা কেবল মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।”
পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগাও শান্ত ভঙ্গিতে একই মত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে পাকিস্তান ভালো খেলছে এবং দল হিসেবে উন্নতির পথে রয়েছে।
সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে কৌতুক
সবশেষে সঞ্জু স্যামসনকে একাদশে রাখা হবে কি না, সেই প্রশ্ন করা হলে সূর্যকুমার চোখ টিপে উত্তর দেন—
“স্যার, আগামীকাল সকালে আমি আপনাকে প্লেয়িং ইলেভেন হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেব।”
এমন বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর শুনে হলঘর আবারও হাসিতে ভরে ওঠে।
নেতৃত্বে পরিপক্বতা
এই পুরো আলাপচারিতা দেখাল, সূর্যকুমার যাদব শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও একজন পরিণত নেতা। তিনি জানেন, কখন গম্ভীর হতে হয় আর কখন হাস্যরস দিয়ে চাপমুক্ত করতে হয়। তার নেতৃত্বে ভারতীয় দল আত্মবিশ্বাসী, সুসংগঠিত এবং জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।
উপসংহার
এশিয়া কাপ ২০২৫ শুরু হতেই ভারতীয় দলকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ চড়ে গেছে। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্ব, হাস্যরস এবং আত্মবিশ্বাস দলকে আরও দৃঢ় করে তুলছে। প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, এই ভারতীয় দল জানে—
প্রস্তুতি, ঐক্য আর ইতিবাচক মানসিকতাই জয়ের আসল চাবিকাঠি।
