Kingdom movie review

🎬 পর্যালোচনা: বিজয় দেবেরকোন্ডার ‘KINGDOM’ – ভিজ্যুয়াল অসাধারণ হলেও দুর্বল গল্পে আটকে থাকা একটি অ্যাকশন ড্রামা

Kingdom movie review- from

সিনেমার নাম: কিংডম
মুক্তির তারিখ: ৩১ জুলাই, ২০২৫
ভাষা: তেলুগু
অভিনীত: বিজয় দেবেরকোন্ডা, সত্যদেব, ভাগ্যশ্রী বোর্সে
পরিচালক: গৌতম তিন্নানুরি
প্রযোজক: নাগা ভামসি, সাই সৌজন্য
সঙ্গীত: অনিরুধ রবিচন্দর
সম্পাদনা: নবীন নুলি
সিনেমাটোগ্রাফি: গিরিশ গঙ্গাধরন, জোমন টি. জন


🧩 গল্পের কাঠামো:

‘কিংডম’-এর গল্প আমাদের নিয়ে যায় ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে। সুরি (বিজয় দেবেরকোন্ডা) হলেন একজন সৎ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কনস্টেবল, যিনি তার ছোট ভাই শিবের খোঁজ করছেন। বছরখানেক আগে নিখোঁজ হওয়া শিব (সত্যদেব) হঠাৎ করেই খোঁজ পাওয়া যায়—সে এখন শ্রীলঙ্কার এক চোরাচালান চক্রের নেতা। ভাইকে ফিরিয়ে আনার একান্ত ইচ্ছায় সুরি নিজেই গোপন এজেন্ট হিসেবে সেই চক্রে প্রবেশ করে।

গল্প এগোয় এক দোদুল্যমান আবেগ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের রাস্তায়। দুই ভাই যখন পরস্পরের মুখোমুখি হয়, তখন শুরু হয় এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ—ভাইয়ের ভালোবাসা ও পেশাদার দায়িত্বের মধ্যে বিভক্ত এক মানুষের লড়াই। সিনেমার ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব নিয়ে নানা মোড় ঘুরে এগিয়ে যায় গল্প, যার পরিণতি দর্শকের মনে কিছু প্রশ্নও রেখে দেয়।


🌟 ইতিবাচক দিক: (pros)

১. বিজয় দেবেরকোন্ডার অভিনয়:
সুরি চরিত্রে বিজয় অত্যন্ত পরিণত এবং সংযত অভিনয় উপস্থাপন করেছেন। তার চোখের ভাষা, নীরব মুহূর্তগুলোতে অভিব্যক্তির সূক্ষ্মতা চরিত্রটিকে বাস্তব করে তোলে। নাটকীয়তা এড়িয়ে যাওয়া তার এই পারফরম্যান্স সিনেমাটিকে অনেকাংশেই ভারসাম্য দিয়েছে।

২. সত্যদেবের উপস্থিতি:
যদিও চিত্রনাট্যে তার চরিত্রটি পুরোপুরি বিকশিত নয়, তবুও সত্যদেবের অভিনয় দৃঢ়। তিনি বিজয়ের সঙ্গে শেয়ার করা দৃশ্যগুলোতে আবেগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাদের ভাই-ভাই সম্পর্ক সিনেমার মূল আবেগীয় স্তম্ভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সেটি পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে।

৩. চিত্রনাট্য ও অ্যাকশন দৃশ্য:
সিনেমার কিছু মুহূর্ত—বিশেষ করে বিরতির আগের ব্রিজ সিকোয়েন্স এবং ক্লাইম্যাক্স—ভালো পরিকল্পিত এবং উত্তেজনাপূর্ণ। এখানে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে, যা সিনেমার গতি এবং উত্তেজনা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৪. দৃশ্যায়ন ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা:
গিরিশ গঙ্গাধরন ও জোমন টি. জন-এর সিনেমাটোগ্রাফি সিনেমার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। শ্রীলঙ্কার দৃশ্য, সমুদ্রপথে অ্যাকশন, অন্ধকার গলি—সব কিছুর মধ্যে এক ধরনের গাম্ভীর্য এবং চলচ্চিত্রিক সৌন্দর্য ছিল।


🔻 নেতিবাচক দিক:(cons)

Kingdom (2025) - Movie | Reviews, Cast & Release Date in devarakonda- BookMyShow

১. দুর্বল এবং অনুমানযোগ্য গল্প:
‘কিংডম’-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর চিত্রনাট্যের জোরালো ভিত্তির অভাব। গল্পটি একাধিকবার দেখা ও শোনা ট্রপের পুনরাবৃত্তি করে। নতুনত্বের অভাব সিনেমাটিকে মাঝপথে একঘেয়ে করে তোলে।

২. আবেগীয় গভীরতার অভাব:
ভাইয়ের সম্পর্ক যেখানে সিনেমার আবেগীয় চালিকা শক্তি হওয়ার কথা, তা পর্দায় খুবই সামান্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। সুরির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং শিবের অনুশোচনার পর্যাপ্ত চিত্রায়ণ না থাকায় দর্শক সেই আবেগে একাত্ম হতে পারে না।

৩. নারীর চরিত্রের গুরুত্বহীনতা:
ভাগ্যশ্রী বোর্সে অভিনীত চরিত্রটি যেন কেবল কাহিনির ফাঁকে ফাঁকে ঢোকানো হয়েছে। তার স্ক্রিনটাইম এবং প্রভাব এতটাই কম যে চরিত্রটি মনে রাখার মতো কিছুই দেয় না। ভবিষ্যতের সিক্যুয়েলের জন্য হয়তো তার গুরুত্ব বাড়বে, কিন্তু এই চলচ্চিত্রে তা একেবারেই উপেক্ষণীয়।

৪. পার্শ্বচরিত্র ও নির্মাণগত সীমাবদ্ধতা:
অন্যান্য পার্শ্বচরিত্রগুলোও অনেকটাই ফাঁপা মনে হয়। প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই পূর্বপরিচিত তেলুগু সিনেমার ‘দেখা-দেখি’ ভাব চলে আসে। এটি ‘দেজা ভু’ অনুভব করায় এবং সিনেমার মৌলিকতা কমিয়ে দেয়।


🎼 কারিগরি মূল্যায়ন:

  • সঙ্গীত ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর:
    অনিরুধ রবিচন্দর তার চেনা ঘরানায় ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরি করেছেন। এটি আবহ তৈরি করতে সাহায্য করলেও, মনে রাখার মতো থিম বা নতুনত্ব অনুপস্থিত।

  • সম্পাদনা ও গতি:
    নবীন নুলির সম্পাদনা প্রথমার্ধে যথেষ্ট গতিশীল হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যের ছন্দ হারিয়ে যায়। কিছু দৃশ্য টেনে বাড়ানো হয়েছে, যেগুলো সিনেমার গতি মন্থর করে দেয়।

  • প্রোডাকশন ডিজাইন ও লোকেশন:
    সিনেমার সেট ডিজাইন, কস্টিউম, লোকেশন চমৎকারভাবে পরিকল্পিত। অ্যাকশন দৃশ্যে রক্ত, ধুলা, অন্ধকার এবং আলোর খেলা এক বাস্তব ও টানটান অভিজ্ঞতা দেয়।


✅ চূড়ান্ত রায়:

‘কিংডম’ একটি দর্শনীয় অ্যাকশন ড্রামা হলেও গল্প এবং আবেগে দুর্বলতা রয়েছে। বিজয় দেবেরকোন্ডা তার কাঁধে সিনেমাটিকে টেনে নিয়ে গেছেন এবং ভিজ্যুয়াল দিক থেকে ছবিটি অনেকখানি এগিয়ে। কিন্তু যারা একটি ভিন্নধর্মী গল্প, নতুন আবেগ এবং গভীর চরিত্রায়ন প্রত্যাশা করেন, তারা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।

যদি আপনি বিজয় দেবেরকোন্ডার ফ্যান হন বা দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফির ছবি দেখতে পছন্দ করেন, তাহলে ‘কিংডম’ একবারের জন্য উপভোগ্য হতে পারে। কিন্তু শক্তিশালী গল্প এবং আবেগপ্রবণ চরিত্রের খোঁজে থাকলে, হয়তো অন্য কিছু খুঁজতে হবে।

liveedge review- 4/5

আরও পড়ুন-

Avatar : Fire and Ash ট্রেলার ব্রেকডাউন – প্যান্ডোরার ৭টি লুকানো রহস্য যা আপনি মিস করে গেছেন

washington sundor কি এবার সত্যি সিএসকে-তে যাচ্ছেন? আইপিএল ২০২৬-এর আগে ট্রেডের দৌড়ে এগিয়ে ৩টি বড় দল!

By admin