national awards 2025 ঃ ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে দক্ষিণী সিনেমার দাপট: উর্বশী, বিজয়রাঘবন ও ভাস্করের জয়, ‘হনু-ম্যান’ পেল সেরা অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির সম্মান
ভারতের চলচ্চিত্র জগতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবার ৭১তম বছরে পা দিল। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলিকে সম্মান জানিয়ে এই পুরস্কারে বলিউড এবং দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক অসাধারণ মেলবন্ধন দেখা গেছে। যেখানে শাহরুখ খান ও বিক্রান্ত ম্যাসির মতো অভিনেতারা সেরা অভিনেতার সম্মান ভাগ করে নিয়েছেন, সেখানে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিজেদের শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ করেছে।
শাহরুখ খান ও বিক্রান্ত ম্যাসির যুগল সাফল্য
বলিউডের ‘বাদশাহ’ খ্যাত শাহরুখ খান দীর্ঘ ৩৩ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন। অ্যাটলি কুমার পরিচালিত অ্যাকশন-প্যাকড ব্লকবাস্টার ‘জওয়ান’-এ তার অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে এই সম্মান ভাগ করে নিয়েছেন বিক্রান্ত ম্যাসি, যিনি বাস্তবভিত্তিক ও আবেগঘন চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য পরিচিত। পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত ‘দ্বাদশ ফেইল’ ছবিতে বিক্রান্তের অভিনয় সমালোচকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।
সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি পেয়েছেন বলিউডের গুণী অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। তিনি ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে‘ ছবিতে এক মা ও অভিবাসীর চরিত্রে দারুণ আবেগ ও বাস্তবতার ছোঁয়া এনেছিলেন।
দক্ষিণ ভারতের গর্ব: মালায়ালাম, তামিল ও তেলেগু ছবির সাফল্য
এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দক্ষিণ ভারতের জন্য ছিল একগুচ্ছ সাফল্যের বার্তা। সহ-অভিনেতা ও সহ-অভিনেত্রী বিভাগে দক্ষিণী শিল্পীদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো।
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জয়ী হয়েছেন মালায়ালামের বিজয়রাঘবন (চলচ্চিত্র: পুক্কালাম) এবং তামিল অভিনেতা এমএস ভাস্কর (চলচ্চিত্র: পার্কিং)। তাঁদের উভয়ের অভিনয় ছিল সংবেদনশীল ও জীবন্ত।
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগেও মালায়ালাম চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। উল্লোঝুক্কু ছবির জন্য উর্বশী এই সম্মান অর্জন করেন। পাশাপাশি গুজরাটি ছবি ভাশ থেকে জানকি বোদিওয়ালা সহ-অভিনেত্রী হিসেবে সমানভাবে প্রশংসিত হন।
শিশুশিল্পী থেকে প্রযুক্তিগত কৃতিত্ব—দক্ষিণী আধিপত্য সর্বত্র
সেরা শিশু শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন সুকৃতি ভেনী বান্দ্রেদি, যিনি গান্ধী তাথা চেট্টু ছবিতে মন ছুঁয়ে যাওয়া অভিনয় উপহার দিয়েছেন।
চিত্রনাট্যের দিক থেকেও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। বেবি ছবির জন্য সাই রাজেশ নীলম এবং পার্কিং-এর জন্য রামকুমার বালাকৃষ্ণ সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।
সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন বিভাগে মালায়ালাম ছবি ২০১৮: সবাই একজন হিরো চলচ্চিত্রের মোহনদাস এই পুরস্কার পেয়েছেন। বাস্তবভিত্তিক ও থ্রিলারধর্মী দৃশ্য নির্মাণে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়।
অ্যাকশন ও সঙ্গীত বিভাগেও দক্ষিণী ঝলক দুর্দান্ত
সেরা অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি বিভাগে জয় পেয়েছে তেলেগু সুপারহিরো ফিল্ম হনু-ম্যান। ছবির অ্যাকশন দৃশ্যগুলি শুধুমাত্র দর্শকের মন জয় করেনি, বরং ভারতীয় অ্যাকশন সিনেমার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
সঙ্গীত বিভাগে তেলেগু ছবির আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। বেবি সিনেমার “প্রেমিস্তুন্না” গানের জন্য পিভিএনএস রোহিত সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হয়েছেন। একই ছবির জন্য সাই রাজেশ পেয়েছেন সেরা গীতিকারের সম্মান, যেখানে গান “ওরু পালেতুরু” এর জন্য কাসারলা শ্যাম-এর নামও এসেছে সামনে।
সেরা সম্পাদনা বিভাগে মালায়ালাম ছবি পুক্কালাম-এর জন্য মিধুন মুরালি পুরস্কার অর্জন করেছেন।
আঞ্চলিক সেরা ছবিগুলির তালিকা
জাতীয় পুরস্কারে প্রতিটি ভাষার শ্রেষ্ঠ সিনেমাগুলিও সম্মানিত হয়। এবারের ফলাফল ছিল এমন:
-
সেরা মালায়ালাম ছবি – উল্লোঝুক্কু
-
সেরা কন্নড় ছবি – কান্দেলু
-
সেরা তামিল ছবি – পার্কিং
-
সেরা তেলেগু ছবি – ভগবন্ত কেশরী
সমাপ্তি
৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছিল বলিউড এবং দক্ষিণী সিনেমার একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এক দুর্দান্ত উদাহরণ। শাহরুখ খানের অভিষেক জাতীয় পুরস্কার যেমন নতুন ইতিহাস রচনা করেছে, তেমনি দক্ষিণ ভারতীয় ছবিগুলোর টেকনিক্যাল এবং পারফর্মেন্স ভিত্তিক জয় প্রমাণ করেছে যে, ভারতের আঞ্চলিক সিনেমা কনটেন্ট ও কারিগরির দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম।
এই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের সাফল্য শুধু তাঁদের নিজস্ব নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার গৌরবময় অভিযাত্রার অংশ। পরবর্তী বছরগুলোতেও এমন উৎসব হোক উদ্ভাবনী কাজ, হৃদয়ছোঁয়া অভিনয় ও সিনেমার গুণগত উৎকর্ষের প্রতিচ্ছবি।
আরও পড়ুন – national awards 2025
KINGDOM’ MOVIE REVIEW: বিজয় দেবেরকোন্ডার দাপটপূর্ণ অভিনয়ে অ্যাকশন ও ড্রামার দুর্দান্ত সংমিশ্রণ
